ভেটো

ভেটো (ইংরেজি: Veto) হচ্ছে একপক্ষীয়ভাবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দেশের মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃক কোন সিদ্ধান্ত বা আইনের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে কোন বিলের উপর তার ভেটো প্রদান করার ক্ষমতা রাখেন। এর মাধ্যমে তিনি কোন আইন বা বিল কংগ্রেস থেকে গৃহীত হওয়া থেকে স্থগিতাদেশ প্রদানে সক্ষমতা প্রদর্শন করেন। কিন্তু হাউজ এবং সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ভেটো প্রদানের সক্ষমতাকে বাতিল করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে।[১]

অবশ্যম্ভাবী শব্দ হিসেবে ভেটো শব্দটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও এটি বৈশ্বিকভাবে বিরাট প্রভাব বিস্তার করে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স - এই পাঁচটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তারা প্রত্যেকেই ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী। ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে যে-কোন একটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত যে-কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়ন অনুমোদনে বাধা প্রদান করতে পারে।

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

ভেটো শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে আহুত, যার অর্থ হচ্ছে আমি মানি না

প্রাচীন রোমের কনসাল এবং ট্রাইবুনগণ আইন সভায় তাদের ভেটো প্রদান করতে পারতেন। তন্মধ্যে - দুইজন কনসাল নির্দিষ্ট বছরে সামরিক কিংবা বেসামরিক পর্যায়ের কোন প্রস্তাবনা বা সিদ্ধান্ত বাতিলকল্পে একে-অপরের বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করলে রোমান সিনেটের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাইবুন কর্তৃক তা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রস্তাবনা বা সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রদান করা হতো।[২]

ভারত[সম্পাদনা]

সাংবিধানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি অনেকগুলো ভেটো ক্ষমতা প্রদানের অধিকারী। রাষ্ট্রপতি যে-কোন বিলে সম্মতি প্রদান বা স্বাক্ষর না-ও করতে পারেন যা অবশ্যম্ভাবী ভেটো হিসেবে পরিচিত। ভেটো প্রয়োগের ফলে তিনি বিলকে পুণরায় সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। এ সীমিত আকারের ভেটোকে পাশ কাটানোর জন্যে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে উতরানো সম্ভব। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি অনির্দিষ্টকালের জন্যে বিলের উপর কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যা কখনো কখনো পকেট ভেটো নামে পরিচিত।[৩][৪]

যুক্তরাজ্য[সম্পাদনা]

১৭০৭ সালে গ্রেট ব্রিটেনের তৎকালীন রাণী এ্যানী কর্তৃক সর্বশেষ রাজকীয় ভেটো প্রয়োগ করা হয়েছিল। এতে তিনি স্কটিশ মিলিশিয়া বিল, ১৭০৮-এর উপর তাঁর ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Article I, Section 7, Clause 2 of the United States Constitution
  2. Spitzer, Robert J. (১৯৮৮)। The presidential veto: touchstone of the American presidency। SUNY Press। পৃষ্ঠা 1–2। আইএসবিএন 978-0-88706-802-7 
  3. Sharma, B.k. (২০০৭)। Introduction to the Constitution of India। New Delhi: Prentice-Hall of India Learning Pvt. Ltd.। পৃষ্ঠা 145। আইএসবিএন 978-81-203-3246-1 
  4. Gupta, V. P. (26 Aug 2002)। "The President's role"Times of India। সংগ্রহের তারিখ January 04, 2012  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |access-date= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ভেটো (ইংরেজি: Veto) হচ্ছে একপক্ষীয়ভাবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দেশের মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃক কোন সিদ্ধান্ত বা আইনের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে কোন বিলের উপর তার ভেটো প্রদান করার ক্ষমতা রাখেন। এর মাধ্যমে তিনি কোন আইন বা বিল কংগ্রেস থেকে গৃহীত হওয়া থেকে স্থগিতাদেশ প্রদানে সক্ষমতা প্রদর্শন করেন। কিন্তু হাউজ এবং সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ভেটো প্রদানের সক্ষমতাকে বাতিল করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে।[১]

অবশ্যম্ভাবী শব্দ হিসেবে ভেটো শব্দটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও এটি বৈশ্বিকভাবে বিরাট প্রভাব বিস্তার করে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স - এই পাঁচটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তারা প্রত্যেকেই ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী। ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে যে-কোন একটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত যে-কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়ন অনুমোদনে বাধা প্রদান করতে পারে।

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

ভেটো শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে আহুত, যার অর্থ হচ্ছে আমি মানি না

প্রাচীন রোমের কনসাল এবং ট্রাইবুনগণ আইন সভায় তাদের ভেটো প্রদান করতে পারতেন। তন্মধ্যে - দুইজন কনসাল নির্দিষ্ট বছরে সামরিক কিংবা বেসামরিক পর্যায়ের কোন প্রস্তাবনা বা সিদ্ধান্ত বাতিলকল্পে একে-অপরের বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করলে রোমান সিনেটের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাইবুন কর্তৃক তা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রস্তাবনা বা সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রদান করা হতো।[২]

ভারত[সম্পাদনা]

সাংবিধানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি অনেকগুলো ভেটো ক্ষমতা প্রদানের অধিকারী। রাষ্ট্রপতি যে-কোন বিলে সম্মতি প্রদান বা স্বাক্ষর না-ও করতে পারেন যা অবশ্যম্ভাবী ভেটো হিসেবে পরিচিত। ভেটো প্রয়োগের ফলে তিনি বিলকে পুণরায় সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। এ সীমিত আকারের ভেটোকে পাশ কাটানোর জন্যে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে উতরানো সম্ভব। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি অনির্দিষ্টকালের জন্যে বিলের উপর কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যা কখনো কখনো পকেট ভেটো নামে পরিচিত।[৩][৪]

যুক্তরাজ্য[সম্পাদনা]

১৭০৭ সালে গ্রেট ব্রিটেনের তৎকালীন রাণী এ্যানী কর্তৃক সর্বশেষ রাজকীয় ভেটো প্রয়োগ করা হয়েছিল। এতে তিনি স্কটিশ মিলিশিয়া বিল, ১৭০৮-এর উপর তাঁর ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Article I, Section 7, Clause 2 of the United States Constitution
  2. Spitzer, Robert J. (১৯৮৮)। The presidential veto: touchstone of the American presidency। SUNY Press। পৃষ্ঠা 1–2। আইএসবিএন 978-0-88706-802-7 
  3. Sharma, B.k. (২০০৭)। Introduction to the Constitution of India। New Delhi: Prentice-Hall of India Learning Pvt. Ltd.। পৃষ্ঠা 145। আইএসবিএন 978-81-203-3246-1 
  4. Gupta, V. P. (26 Aug 2002)। "The President's role"Times of India। সংগ্রহের তারিখ January 04, 2012  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |access-date= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

Dieser Artikel basiert auf dem Artikel ভেটো aus der freien Enzyklopädie Wikipedia und steht unter der Doppellizenz GNU-Lizenz für freie Dokumentation und Creative Commons CC-BY-SA 3.0 Unported (Kurzfassung). In der Wikipedia ist eine Liste der Autoren verfügbar.